মালদ্বীপে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের দুজনেরই মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইকমিশন।
নিহত দুই প্রবাসী হলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মো. রব্বান মিয়া এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জের রুহুল আমিন কাজল। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
ঘুমের মধ্যেই না ফেরার দেশে রব্বান
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রব্বান মিয়ার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। তার বাবার নাম মো. মুসলিম মিয়া।
জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন রব্বান। দেশটিতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে বৈধভাবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে মাহিবাদু দ্বীপে বিভিন্ন নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
শনিবার রাতে সামান্য অসুস্থ বোধ করেছিলেন রব্বান। এরপরও প্রতিদিনের মতো খাবার ও ওষুধ খেয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু পরদিন সকালে তার ঘুম না ভাঙায় বিষয়টি মালিককে জানানো হয়।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
রব্বানের শ্যালক শাহিন জানান, দেশে তার দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১৬ বছরের প্রবাসজীবনের অবসান কাজলের
রব্বানের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যুর খবর আসে আরেক বাংলাদেশি রুহুল আমিন কাজলের। তার বয়স ৪৮ বছর। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজলের বাবার নাম আবদুর রশিদ সিকদার।
প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে দেশটির কাশীধু দ্বীপে বৈধভাবে কাজ করে আসছিলেন।
পরিবার জানিয়েছে, কাজল দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। রোববার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অপেক্ষা এখন মরদেহ দেশে ফেরার
একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুতে মালদ্বীপের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোক। তাদের স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দুই পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।








