বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

আকাশে দুই পাইলটের মারামারি, যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুই পাইলট নামালেন বিমান

আকাশে উড়ছিল যাত্রীবাহী বিমান। হঠাৎ ককপিটে শুরু হয় দুই পাইলটের হাতাহাতি। একপর্যায়ে একজন আরেকজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। একই সময়ে দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে বিমানটি। মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় আতঙ্ক।

তবে শেষ পর্যন্ত বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন যাত্রীদের আসনে থাকা আরও দুই পাইলট। তাদের সহায়তায় সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনাটি ঘটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে।

বিমানে থাকা এক যাত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। এ অবস্থায় যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুই পাইলটকে দ্রুত ককপিটে গিয়ে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য বলা হয়।

ওই যাত্রী সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টকে জানান, হামলাকারী পাইলটকে সামনের দিকের যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে ককপিট থেকে বের করে নিয়ে আসেন। তখন বিমানের পেছনের দিকে বসে থাকা দুই পাইলটকে তিনি দৌড়ে গিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে বলেন।

এরপর ওই দুই পাইলট ককপিটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান।

ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত পাইলট, চিকিৎসা দিলেন যাত্রী
পাইলটদের সংঘর্ষের একপর্যায়ে একজন পাইলট ছুরি দিয়ে অপরজনকে আঘাত করেন। আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় তার পরনের শার্ট রক্তে ভিজে যায়।

আহত পাইলটকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ারও ব্যবস্থা করেন বিমানের যাত্রীরা। ওই ফ্লাইটে থাকা একজন ডেন্টিস্ট আহত পাইলটকে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট যাত্রী।

ঘটনার সময় বিমানের ভেতরের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারানোয়। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। যাত্রীরা প্রথমে মনে করেছিলেন, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হয়তো পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।

পাঠানো হয় জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’
পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যেই বিমানটি থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বিমান চলাচলে ‘৭৭০০’ সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত একটি সংকেত। তবে ওই সংকেত পাওয়ার পর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শুরুতে বিমানটি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

পরে অবশ্য জানা যায়, ঘটনাটি ছিনতাইসংক্রান্ত ছিল না।

জরুরি সংকেত পাঠানোর পর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেটি জরুরি অবতরণ করে।

অক্ষত বিমান, নিরাপদ যাত্রীরা
তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, জরুরি অবতরণের পর বিমানটির কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিমানে থাকা সব যাত্রীও নিরাপদে রয়েছেন।

অর্থাৎ ককপিটে দুই পাইলটের মারামারি, একজনের ছুরিকাঘাত এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতা হারানোর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামানো সম্ভব হয়।

বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুই পাইলট এবং আহত পাইলটকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনাও পুরো পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *