শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হবে কর্মী, চট্টগ্রাম থেকে শুরু হচ্ছে পাইলট প্রকল্প

বিদেশের শ্রমবাজারে কোন ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে, তা আগে চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী বাংলাদেশে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বা পাইলট প্রোগ্রাম চট্টগ্রাম থেকে শুরু করতে চায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শনিবার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) এবং মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নয়, কোন জায়গায় কী ধরনের শিল্প রয়েছে এবং সেই শিল্পে কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন, সেটি আগে জানতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা দেশের শিল্পখাতে যেমন কাজে লাগবেন, তেমনি বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী পাঠানোর সুযোগও তৈরি হবে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কোন অঞ্চলে কী ধরনের ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে এবং কোন ধরনের স্কিল বা ট্রেইনিং প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমরা চট্টগ্রাম থেকেই এমন একটি পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করতে চাই।

চট্টগ্রামে আরও দক্ষ কর্মী তৈরির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে ফিরে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে রাষ্ট্রদূতদের আহ্বান
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদেশের শ্রমবাজারের বিষয়টি সামনে আনেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনও।

তিনি বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রতি নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোন দেশে কোন ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মেয়র বলেন, বিদেশের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়বে। এজন্য বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের শ্রমবাজারের নতুন সুযোগগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোন দেশের বাজারে কী ধরনের কর্মীর প্রয়োজন, সে তথ্য যদি আগে পাওয়া যায় এবং সেই চাহিদা অনুযায়ী দেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজের ওপর গুরুত্ব
কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে থেকেও অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভালো করছে। তার প্রশ্ন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি ভালো করতে পারে, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কেন পারবে না?

দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রামকে ঘিরে নতুন ভাবনা
শিল্পনগরী ও বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামে বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তাই এখানকার শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির পাশাপাশি বিদেশের শ্রমবাজারের জন্যও প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি মডেল চালুর কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে কীভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ কর্মী তৈরি করা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফিরে সার্বিক পর্যালোচনা ও আলোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী তৈরির পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শনিবারের পরিদর্শনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *