শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এলো ৮৫৭ কোটি ডলার, রেমিট্যান্সে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৮৫৭ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৮৫৭ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসী আয় এসেছিল ৭৫৮ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ চলতি বছরজুড়েই দেখা যাচ্ছে। প্রবাসীদের ধারাবাহিকভাবে অর্থ পাঠানো এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করার বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের ফলে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৭৫ কোটি ডলার
প্রথম প্রান্তিকের শেষ মাস সেপ্টেম্বরেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। মাসটিতে প্রবাসীরা ২৭৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছরের একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল ২৬৯ কোটি ডলার।

শুধু সেপ্টেম্বরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে গতি
২০২৬ সালের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ে বাড়তি গতি দেখা গেছে। জানুয়ারি মাসে দেশে রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ওই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছিল ৪৫ শতাংশেরও বেশি।

এরপরের মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিবেশ উন্নত হওয়ায় এ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বৈধ পথে অর্থ পাঠানোয় গুরুত্ব
আর্থিক বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার সমন্বয়, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে নীতিগত প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ভূমিকা রাখছে।

একই সঙ্গে হুন্ডির মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানো নিরুৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে সহায়ক হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে প্রভাব
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৮৫৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বছরের শুরু থেকে চলে আসা ঊর্ধ্বমুখী ধারারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *