গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে বড় পরিসরে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের পাশাপাশি কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ইউনিট-২ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুনের শিখার সঙ্গে বাড়তে থাকে ধোঁয়ার পরিমাণ। কারখানায় থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ভবনের কোন তলা থেকে আগুন ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাশাপাশি গাজীপুর, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ইউনিট আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, টঙ্গী থেকে তিনটি, উত্তরা থেকে তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন থেকে চারটি, কুর্মিটোলা থেকে চারটি, রাজেন্দ্রপুর থেকে দুটি এবং পূর্বাচল থেকে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ছাড়া মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
কারখানাটির ভবন নির্মাণে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহারের পাশাপাশি কাচও রয়েছে। এসব উপাদানের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার শাহিন আলম। তিনি বলেন, ভবনটিতে কাচ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ভেতরে কর্মী বা অন্য কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে হতাহতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো নেই।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
আগুনের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কারখানার ভেতরে থাকা মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।








