মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে না। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার। এতে কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা পরিচালনার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ জন্য অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারগুলোকে বাদ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল সেন্টার চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার। নতুন নীতিমালার আলোকে কেন্দ্রগুলো যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিতর্কিত কেন্দ্র বাদ দিয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে কেন্দ্রগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দলের সরেজমিন পরিদর্শন প্রয়োজন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করবে। নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোনো একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে সব কর্মীর পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। বরং অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।
এ উদ্যোগের ফলে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে একাধিক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এড়ানো এবং সেবার স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর সংখ্যা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্ধারিত ফি এবং কর্মীরা কীভাবে কেন্দ্র নির্বাচন করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, চূড়ান্ত তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।
অনিয়ম পেলে বন্ধ হবে মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম
মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাচাই-বাছাই করবে বলে জানানো হয়েছে।
কোনো মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার কার্যক্রম বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন মেডিকেল সেন্টারও তালিকায় যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। নতুন কোনো কেন্দ্র অনুমোদন পেলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও তালিকাটি প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
কর্মীদের ব্যয় ও ভোগান্তি কমানোর প্রত্যাশা
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে নির্ধারিত কেন্দ্র, ফি এবং পরীক্ষার নিয়ম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
একাধিক অনুমোদিত কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা থাকলে কর্মীদের জন্য সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কমবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত ফি, কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম এবং বাস্তবায়ন ব্যবস্থার ওপর।
সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। সে লক্ষ্যেই নিয়োগব্যবস্থার পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টার অনুমোদন ও তদারকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে নতুন নীতিমালায় কেন্দ্রগুলোর যাচাই-বাছাই এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কর্মীরা আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদিত তালিকা, ফি এবং কেন্দ্র নির্বাচনের নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।








