সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

কাজের সন্ধানে রাশিয়া গিয়ে জড়ালেন যুদ্ধে, ২৪ বছরেই শেষ প্রবাসী সাগরের জীবন

রাশিয়ায় গিয়ে বেকারিতে কাজ নিয়েছিলেন কুমিল্লার মো. সাগর। কিন্তু একপর্যায়ে ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার প্রলোভনে জড়িয়ে পড়েন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। বাবার নিষেধও মানেননি তিনি। চলতি বছরের মে মাসে যোগ দেন রুশ সেনাবাহিনীতে। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি তার। অবশেষে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সহকর্মীর ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পান বাবা কবির হোসেন।

২৪ বছর বয়সী সাগর কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা। পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাবা কবির হোসেন।

বেকারির চাকরি থেকে যুদ্ধের ময়দানে
কবির হোসেন জানান, চান্দিনার একটি রড-সিমেন্টের দোকানে ভ্যানে করে মালামাল আনা-নেওয়ার কাজ করতেন সাগর। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি রাশিয়া যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পরে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান সাগর। সেখানে একটি বেকারিতে চাকরিও পান।

কিন্তু এরপর এক দালালের প্রলোভনে পড়ে তার জীবনের গতিপথ বদলে যায় বলে দাবি পরিবারের। ওই ব্যক্তি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে ৩০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলে সাগরকে প্রস্তাব দেন।

বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি ছেলেকে যুদ্ধে যোগ দিতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু বাবার সেই নিষেধ উপেক্ষা করেই রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন সাগর। চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

সহকর্মীর ফোনে মৃত্যুর খবর
দীর্ঘদিন ছেলের কোনো খোঁজ না পাওয়ার মধ্যে গত শনিবার সাগরের এক সহকর্মী ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানান। খবরটি শুনে ভেঙে পড়েন কবির হোসেন। ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরে সাগরের মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার বাবার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

ফলে সাগর ঠিক কবে এবং কী পরিস্থিতিতে মারা গেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস ইউএনওর
সাগরের মৃত্যুর খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল হক বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

সাগরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময়, মরদেহের অবস্থান এবং দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা এখনো অজানা। একই সঙ্গে কোন ব্যক্তি তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন, কীভাবে তিনি সেনাবাহিনীতে যুক্ত হন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি জানা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *