সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্তি, মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন ৩০ বাংলাদেশি

কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারণাকেন্দ্রে আটকে থাকার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে অবশেষে দেশে ফিরছেন ৩০ বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থাই এয়ারওয়েজের TG-321 ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্র তাদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে যুক্ত করা হয়। পালানোর চেষ্টা করলে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে। পরে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন।

দূতাবাসকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি
আটকে থাকা বাংলাদেশিদের মুক্ত করে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখাকে নির্দেশনা দিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

বোর্ডের প্রবাসী কল্যাণ শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি এবং দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব তাদের মুক্ত করে দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়।

দেশে ফিরতে গিয়েও আটক
গত ৩ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়ার নমপেন বিমানবন্দরে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন ৩২ বাংলাদেশি। কিন্তু ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধ অবস্থানসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাদের আটক করা হয়।

পরে দুজন ছাড়া পেলেও বাকি ৩০ জনকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে থাকতে হয়। অর্থাৎ, দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরও তাদের ফেরা সম্ভব হয়নি।

তাদের কম্বোডিয়ায় কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কোন পথে তারা সাইবার প্রতারণাকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কী ধরনের নির্যাতন বা জবরদস্তি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের দেশে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও সরকারি উদ্যোগের কথা চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

ফিরছেন যেসব বাংলাদেশি
দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ৩০ বাংলাদেশি হলেন, মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে ও মোহাম্মদ কবির।

তাদের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটার কথা থাকলেও কম্বোডিয়ায় শ্রমিকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে। কীভাবে দালাল চক্র তাদের বিদেশে নিয়েছিল, নিয়োগের নামে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং এ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *