ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক প্রবাসীর বাড়িতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। গৃহকর্তা মাসুম মোল্লার কাছে একাধিক ব্যক্তির টাকা পাওনা থাকার বিষয়টি সামনে আসায় ডাকাতির অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে গত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরবপ্রবাসী বাধন মোল্লার বাড়িতে ঢুকে তার বাবা মাসুম মোল্লাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে ঘর থেকে ৫ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ডাকাতদল প্রথমে জানালা দিয়ে মাসুম মোল্লাকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর তাকে বেঁধে রেখে ঘরে লুটপাট চালানো হয়। সকালে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে মাসুম মোল্লাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
ডাকাতি, নাকি অন্য কোনো ঘটনা, যে প্রশ্ন খতিয়ে দেখছে পুলিশ
ঘটনাটির বর্ণনার পাশাপাশি গৃহকর্তার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। তার ভাষ্য, মাসুম মোল্লার কাছে একাধিক ব্যক্তি টাকা পাবেন বলে জানা গেছে। এ কারণে তিনি পাওনাদারদের চাপের মুখে পড়ে ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে উপস্থাপন করছেন কি না, সেই সন্দেহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে পুলিশের এই সন্দেহ এখনো তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে কি না, অভিযোগে উল্লেখ করা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।
ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। ডাকাতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে কথিত ডাকাতির ধরন, বাড়িতে প্রবেশের পথ, লুট হওয়া অর্থ ও স্বর্ণালংকারের বিষয়ে প্রমাণ এবং মাসুম মোল্লার আর্থিক লেনদেন, এসব বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তার বক্তব্য ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রাপ্ত আলামতের সামঞ্জস্যও তদন্তের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। ফলে বসন্তপুরের এ ঘটনায় ডাকাতির অভিযোগ কতটা সত্য, আর্থিক বিরোধের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ভর করছে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর।








