রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

সৌদিতে ১৪৪ ফ্লাইট বাতিল, রিয়াদ চালু হলেও কবে স্বাভাবিক হবে বাংলাদেশ রুট?

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথের যোগাযোগে। এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ১৪৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা এলেও বাংলাদেশ থেকে ওই রুটে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল কবে ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে প্রবাসী কর্মী, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি ও ওমরাহযাত্রীদের অনিশ্চয়তা কাটছে না।

বাতিলের তালিকায় সরাসরি ও ট্রানজিট, দুই ধরনের ফ্লাইট
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার সাকিবের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ১৪৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। অর্থাৎ, সৌদি আরবগামী যাত্রীদের পাশাপাশি অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও এই পরিস্থিতির প্রভাবে পড়েছেন।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট।

ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বাতিল হয়েছে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি, সালামএয়ারের সাতটি, ইজিপ্টএয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি ফ্লাইট।

ফ্লাইট বাতিলের এই হিসাব যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে তৈরি হওয়া বড় ধরনের বিঘ্নের চিত্র তুলে ধরে। তবে কতজন যাত্রী নতুন টিকিট পেয়েছেন, কতজনের যাত্রা পিছিয়েছে এবং কতজন এখনো বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

রিয়াদ বিমানবন্দর খুলছে, কিন্তু বাংলাদেশ রুটের নিশ্চয়তা কোথায়?
প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনালে ফ্লাইট পরিচালনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর বিমানবন্দরটিতে কার্যক্রম বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এসেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল-১ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং টার্মিনাল-২ দিয়ে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

তবে বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণা এবং বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের সময়সূচি স্বাভাবিক হওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট কবে পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা ও বুকিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-দাম্মাম স্থগিত, ঢাকা-রিয়াদ বন্ধ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট চালু রাখার কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এতে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একরকম থাকছে না। একটি রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকলেও অন্য রুটে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যাত্রার আগে নির্দিষ্ট গন্তব্যের ফ্লাইট-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভোগান্তির মধ্যে প্রবাসী ও ওমরাহযাত্রীরা
ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসী কর্মী, দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী এবং ওমরাহযাত্রীরা। কারও কর্মস্থলে ফেরার সময় পিছিয়ে যাচ্ছে, কারও দেশে ফেরার পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আবার ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা নির্ধারণ করা যাত্রীদেরও নতুন সূচির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

তবে ২২ হাজার ২১ জন যাত্রীর মধ্যে কতজন প্রবাসী কর্মী, কতজন দেশে ফেরার অপেক্ষায় এবং কতজন ওমরাহযাত্রী, তার পৃথক হিসাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিমানবন্দর চালু হলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিমানবন্দরটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে যাতায়াত না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে। তবে এই হুঁশিয়ারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট চালুর সময়সূচিতে কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখন যাত্রীদের প্রধান প্রশ্ন, কবে মিলবে নিশ্চিত সময়সূচি?
এ পর্যন্ত ১৪৪টি ফ্লাইট বাতিল এবং ২২ হাজার ২১ জন যাত্রীর ভোগান্তির তথ্য পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। রিয়াদ বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে হালনাগাদ সময়সূচি, টিকিটের অবস্থা ও বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। বিমানবন্দর চালুর ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ-সৌদি রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর স্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা গেলে অনিশ্চয়তায় থাকা যাত্রীরা তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *