জাপানে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই সামনে এসেছে জাপানি ভাষা শেখানোর সক্ষমতা নিয়ে বড় ঘাটতি। সরকারি জরিপে দেখা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মীদের ভাষা শেখানোর জন্য পর্যাপ্ত নিবন্ধিত শিক্ষক পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর একটি বড় অংশ। ফলে কর্মীদের জাপানে যাওয়ার আগেই ভাষাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
জাপানের দ্য জাপান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল থেকে ‘এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিং’ কর্মসূচির পরিবর্তে বিদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের নতুন কাঠামো কার্যকর করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় জাপানে কাজ করতে যাওয়ার আগে কর্মীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা পরীক্ষায় অন্তত এ১ (A1) স্তরে উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা কমপক্ষে ১০০ ঘণ্টার জাপানি ভাষা ক্লাসে অংশ নিতে হবে।
কিন্তু কর্মীদের ভাষা শেখানোর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে সরকারি জরিপে।
পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, নিয়োগের পথও অজানা অনেক সংস্থার
জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি ও শ্রম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ জরিপ পরিচালনা করে। বিদেশি কর্মীদের সহায়তাকারী সংস্থা এবং তাদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে নিবন্ধিত জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়।
সরকার-সংশ্লিষ্ট অর্গানাইজেশন ফর টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ট্রেনিংয়ের মেইলিং তালিকায় থাকা ১ হাজার ৮৮০টি সংস্থাকে জরিপের আওতায় আনা হয়। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ৩৪৮টি সংস্থার কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য উত্তর পাওয়া যায়।
উত্তরদাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে ১২৫টি, অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত নিবন্ধিত শিক্ষক নেই। শুধু বর্তমান ঘাটতিই নয়, ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তারা আশাবাদী নয়।
অন্যদিকে, ৫১টি সংস্থা বা ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে। আরও ৬৬টি সংস্থা বা ১৯ শতাংশ মনে করে, তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষক সংগ্রহ করতে পারবে। বাকি ১০৬টি সংস্থা জানিয়েছে, শিক্ষক নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা কাজ করছে।
জরিপের ফলাফলে আরেকটি সমস্যাও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনেকে জানিয়েছেন, নিবন্ধিত জাপানি ভাষার শিক্ষক কোথায় পাওয়া যাবে কিংবা তাদের নিয়োগের জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।
প্রথম বছরেই ১৭ হাজারের বেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৪৮টি সংস্থা নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম বছরে মোট ১৭ হাজার ২৪৭ জন বিদেশি কর্মী গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫০২ জন জাপানে পৌঁছানোর আগেই ভাষা দক্ষতা পরীক্ষায় অন্তত এ১ স্তর অর্জন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, কর্মসূচির শুরুতেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মীর ভাষাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি তাদের নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনিশ্চয়তা থাকায় এই প্রস্তুতি কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
জাপানে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত জাপানি ভাষার শিক্ষকের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ হাজার। তবে দেশে মোট কতজন শিক্ষক রয়েছেন, সেই সংখ্যা দিয়ে নতুন কর্মসূচির আওতায় কর্মীদের প্রশিক্ষণের চাহিদা পূরণ হবে কি না, তা নিশ্চিত করা যায় না। কারণ, নিবন্ধিত শিক্ষকদের কতজন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন, তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে জরিপে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা সরকারের
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষক নিশ্চিত করার জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তবে শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, কতজন শিক্ষক প্রয়োজন এবং নতুন কর্মসূচি শুরুর আগে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
জরিপে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলোর উত্তরও মোট ১ হাজার ৮৮০টি সংস্থার সবগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কারণ, গ্রহণযোগ্য উত্তর এসেছে ৩৪৮টি সংস্থার কাছ থেকে।
জাপানের নতুন কর্মসূচিতে বিদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষক নিশ্চিত করার সক্ষমতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। আগামী এপ্রিলে কর্মসূচি চালুর আগে শিক্ষক নিয়োগের বাস্তব অগ্রগতি, প্রশিক্ষণের সুযোগ এবং কর্মীদের ভাষা শেখানোর দায়িত্ব কীভাবে বণ্টন করা হবে, সেসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন। সূত্র: জাপান টাইমস








