মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সবশেষ

ইউরোপযাত্রার স্বপ্ন, লিবিয়ায় বন্দিদশায় নির্যাতন শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

দালালের প্রলোভনে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা, এরপর লিবিয়ায় অনিশ্চিত জীবন। কারও ঠাঁই হয়েছে আটককেন্দ্রে, কারও বিরুদ্ধে রয়েছে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা। এমন পরিস্থিতিতে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ বাংলাদেশি। তাদের প্রত্যাবাসনের ঘটনা আবারও সামনে এনেছে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের ফ্লাইটে দেশে ফেরেন এসব বাংলাদেশি নাগরিক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।

ইউরোপে যাওয়ার পথ কীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠল?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের অনেককে লিবিয়ায় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

প্রত্যাবাসিতদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

আটককেন্দ্র থেকে দেশে ফেরার উদ্যোগ
লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন শুধু দেশে ফেরার ব্যবস্থা নয়; আটক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা অভিবাসীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনারও একটি মানবিক উদ্যোগ। এবার দেশে ফেরা ১৭৪ জনের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি লিবিয়া সরকার ও আইওএম সহযোগিতা করেছে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান।

দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনে সহায়তা
প্রত্যাবাসিতদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে আইওএম প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়তা দিয়েছে। যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তবে দেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়েই তাদের সংকটের সবকিছুর অবসান হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য নেই। তাদের ভবিষ্যৎ জীবিকা, আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

অভিজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রশ্ন
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম যৌথভাবে কাজ করছে।

তবে এই প্রত্যাবাসনের ঘটনা যে প্রশ্ন সামনে আনে তা হলো, ইউরোপে যাওয়ার আশায় যারা মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে অনিয়মিত পথে পা বাড়াচ্ছেন, তাদের ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সচেতন করা এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কতটা সম্ভব হচ্ছে? এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *