ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই অভিযানে আগের চেয়ে আরও তীব্র হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়েও কৌশলগত পরিকল্পনা চলছে। একইসঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ কমান্ডো অভিযান পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সেই অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা।
তবে এই ধরনের অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এতে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অভিযানে সহায়তার জন্য কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, যা ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তেলআবিব। বর্তমানে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী অবস্থানের দিকে নজর রাখছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া কঠিন। তাই কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে। এখন সবাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
তিনি আরও দাবি করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
এর আগে, গত শুক্রবার চীন সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে ওয়াশিংটন বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। যদিও এর আগে তিনি ইরানকে স্থায়ীভাবে এই কার্যক্রম বন্ধ করার শর্ত দিয়েছিলেন।








