সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আসামি করা হয় সাহাবুদ্দিনকে!

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালীনই ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণসংক্রান্ত একটি দুর্নীতির মামলায় আসামি করা হয়েছিল সদ্য দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে। তবে মামলার এজাহারে তার পরিচয় উল্লেখ করা হয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক ‘মো. শাহাবুদ্দিন’ হিসেবে, যা নিয়ে শুরুতে পরিচয় নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও মামলার বাদী দাবি করেছেন, তিনিই সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি।

মামলাটি করেন ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ। তিনি ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বাদী আবদুচ ছামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার ঘটনার সময় সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন এবং মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতিই।

যদিও বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। তিনি জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই তিনি মামলা দায়ের করেছেন। তালিকাভুক্ত ‘সাহাবুদ্দিন’ সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি না, সে বিষয়ে তার কাছে আলাদা কোনো তথ্য নেই।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়। এসব শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৫১ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত স্বল্প পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনা আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পরিকল্পিত যোগসাজশে জনগণের অর্থ ব্যবহার করে এ লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম), ইসলামী ব্যাংকের একাধিক পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে। শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ, অর্থের উৎস ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে অভিযোগে বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার কৌশল বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ ও লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। একই সঙ্গে জনগণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সর্বশেষ গত ২৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও দুদক তা জমা দিতে পারেনি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

তবে আদালত মামলার অন্য আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিলেও মো. সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *