বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সবশেষ

সেনা কর্মকর্তা হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় পৃথক দুই মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরও ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র আইনের মামলাতেও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দলের অবস্থানের খবর পায় যৌথ বাহিনী। খবরের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে রাত প্রায় ৩টার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের একজনকে ধাওয়া করে আটক করেন লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। এ সময় ওই সদস্যসহ তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন চকরিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। সেনা কর্মকর্তা হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল হারুণুর রশীদ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির ঘটনায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলমগীর।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রধান অর্থদাতা মো. বাবুল প্রকাশসহ কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরী ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ২০ মাস পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।

নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন ছিলেন পাবনা ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেতকা গ্রামে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *