শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নেবে মালদ্বীপ

মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাংলাদেশি চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি উন্নতমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহও প্রকাশ করেছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি।

সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী গীলা আলী। মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশটির স্বাস্থ্যখাতে বর্তমানে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন। এ প্রয়োজন পূরণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গীলা আলী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে বলেন, মালদ্বীপে আরও বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগে তাদের সরকার আগ্রহী। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা মালদ্বীপের কাছে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। এজন্য সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ওষুধ আমদানির পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও গুণগত মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য শিগগিরই মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, মালদ্বীপে বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব দ্রুতই একদল দক্ষ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বৈঠকে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার আওতায় মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ সরকার ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি প্রদান করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী চিকিৎসা শিক্ষার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিতে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের আহ্বানও জানান তিনি।

এছাড়া মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী গীলা আলী। একইসঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও আইসিইউ সুবিধাসহ জরুরি মানবিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার স্বাস্থ্যখাতের কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *