হারের শঙ্কা, সমতায় ফেরার লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা মিলিয়ে স্মরণীয় এক সেমিফাইনাল উপহার দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই কিছুটা চাপে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৩তম মিনিটে কর্নার থেকে গীতা রানির গোলে এগিয়ে যায় নেপাল। গোল হজমের পরও বাংলাদেশ নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিল। প্রথমার্ধে আরও একবার গোল খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও গোলরক্ষক মিলি আক্তারের চমৎকার সেভ দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বিরতির ঠিক আগে। কর্নার কিক থেকে সরাসরি দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার অসাধারণ সেই গোলে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ, আর ১-১ স্কোরলাইন নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে এবং জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। নেপাল কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। বাংলাদেশের পক্ষেও সাগরিকার সামনে গোলের ভালো সুযোগ এসেছিল, তবে সেটি থেকে ফল মেলেনি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল এবং ফলাফল অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জন্য কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে সাগরিকার চাপের মুখে নেপালের ডিফেন্ডাররা ভুল করে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেয়।
আত্মঘাতী সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাসে ভাসে বাংলাদেশের ফুটবলাররা। এই জয়ের ফলে পিটার বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ নারী দল টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব দেখাল। এখন তাদের সামনে আরও একটি শিরোপা জয়ের সুযোগ।








