মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সবশেষ

ডেথ রেফারেন্স কী, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অগ্রগতি কতদূর?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ রেফারেন্স নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়সহ ৭২ পৃষ্ঠার নথিও উচ্চ আদালতের কাছে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে স্বাক্ষর করার পর নথিটি হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়। এর মাধ্যমে মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।

এর আগে, রোববার (৭ জুন) ট্রাইব্যুনাল মামলার রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন এবং হত্যার বিষয়টি সাক্ষ্য-প্রমাণে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার পর পালাতে সহায়তার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি নজির হিসেবে আলোচিত হয়েছে। অভিযোগ গঠন থেকে শুরু করে সাক্ষ্য গ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে অধিকাংশের সাক্ষ্য দ্রুত গ্রহণ করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হন। পরে একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডেথ রেফারেন্স কী এবং কেন হাইকোর্টে যায়
ফৌজদারি মামলায় কোনো আসামিকে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় সরাসরি কার্যকর হয় না। আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই অনুমোদনের জন্যই নিম্ন আদালত থেকে রায়সহ যে নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়, সেটিই ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত।

হাইকোর্ট এই নথি পর্যালোচনা করে দেখে, বিচার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয়েছে কি না এবং রায় আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে কি না। এরপর হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখতে পারে, পরিবর্তন করতে পারে বা বাতিলও করতে পারে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, কোনো মৃত্যুদণ্ড যেন বিচারিক ভুল বা অসম্পূর্ণ প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর না হয়। বর্তমানে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *