বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সবশেষ

মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা আঘাতের দাবি ইরানের, লক্ষ্য পঞ্চম নৌবহর ও বিমানঘাঁটি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (ফিফথ ফ্লিট) এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটি ছিল এসব হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি রয়েছে বলে পরিচিত একটি বিমানঘাঁটিতেও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যায়, তাহলে আরও কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।

জর্ডানে পরিচালিত হামলার বিষয়ে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র বিমানঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং একটি প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান ছিল ইরানের ‘অযৌক্তিক আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া।

আইআরজিসি বলছে, এই হামলা বৃহত্তর প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ২১টি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির জেনারেল স্টাফ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় কুয়েতের সেনাবাহিনী নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব এড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *