রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সবশেষ

ইইউর নতুন অভিবাসন নীতিতে উদ্বেগে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা, কী আছে আইনে?

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি কার্যকর হওয়ার পর ইতালিসহ ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম আরও কঠোর বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার থেকে ইইউর নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুমোদিত এই নীতিমালার মাধ্যমে আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বহিষ্কার ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় আরও কঠোর এবং দ্রুত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের ওপর। কারণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের প্রধান দ্বার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইতালিকে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

এতদিন মানবিক বিবেচনায় ইতালি অনেক অভিবাসীকে আশ্রয়ের সুযোগ দিলেও নতুন নীতির কারণে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতালির লিবর্নো শহরের মেয়র লুকা সালভেত্তি বলেন, অতীতে সমুদ্রপথে আসা বহু মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে সেই প্রক্রিয়া আগের মতো সহজ নাও থাকতে পারে।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবৈধ বা অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই তারা বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইইউর কোনো একটি সদস্য দেশ যদি কাউকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও স্বীকৃতি দিতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত শুধু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন ৩ হাজার ৮৯৯ বাংলাদেশি। নতুন নীতির ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের পথ আরও সংকুচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই নতুন পদক্ষেপ মূলত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার অংশ। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের জন্য এখন বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বিকল্প প্রায় নেই বললেই চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *