২০১৩ সালের শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতকে জানান, এই মামলায় আগে থেকেই আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, দুপুর ১টার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
এর আগে, ২৭ জুলাই একই মামলায় প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল-২ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১০ জনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
এ ছাড়া অন্য একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন হাসানুল হক ইনু। একই মামলায় আবদুর রাজ্জাকও গ্রেপ্তার আছেন। বাকি আসামিরা পলাতক।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি প্রধান ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ বহু মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড গণহত্যা, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে।








