চার মাসের অপেক্ষার পর ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমামে খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোক, আবেগ এবং প্রতিশোধের আহ্বানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাচে ঘেরা বিশেষ একটি কফিনে রাখা হয়েছে খামেনির মরদেহ। তার পাশেই রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিন। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসে বহু মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স এবং আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা গেছে। তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও সকাল থেকে হাজারো মানুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানও দেন উপস্থিত জনতা।
রাষ্ট্রীয় এ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত রয়েছে। এছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলেও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন তেহরানে নিজ আবাসিক ভবনে অবস্থানকালে ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।
প্রথমে গত মার্চে তার দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির সুযোগে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হওয়া দাফনের আনুষ্ঠানিকতা টানা সাত দিন চলবে।








