কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও ইরাকে সীমিত পরিসরে নগদ মার্কিন ডলার পাঠানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের নতুন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ ও আর্থিক খাতে সংস্কারের অগ্রগতির প্রেক্ষাপটেই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা নিরাপত্তা সহযোগিতা এখনও পুরোপুরি পুনর্বহাল হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইরাকের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দুই সহকারীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানযোগে আবারও সীমিত পরিমাণে নগদ মার্কিন ডলার বাগদাদে পাঠানো হচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চালান স্থগিত করেছিল। একই সময়ে ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার কিছু অংশও স্থগিত করা হয়।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি এসব গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বাগদাদ সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকে পাঠানো নগদ মার্কিন ডলার মূলত দেশটির তেল বিক্রির আয় থেকে আসে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ইরাকে পাঠানো হয়।
এসব ডলার স্থানীয় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ, খুচরা পর্যায়ের ডলার লেনদেন এবং বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন বৈধ খাতে ব্যবহার করা হয়। তবে নগদ ডলারের চালান বন্ধ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত ইলেকট্রনিক ডলার লেনদেন পুরো সময়ই চালু ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি দায়িত্ব নেওয়ার পর ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক হওয়ায় ডলার সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নগদ ডলার পাঠানো শুরু হলেও ইরাকের সঙ্গে স্থগিত থাকা নিরাপত্তা সহযোগিতা এখনও সম্পূর্ণভাবে পুনর্বহাল করা হয়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিংবা ট্রেজারি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।








