সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

গ্রামীণ লোডশেডিং বিদ্যুতের ঘাটতির নয়, অবকাঠামোগত সমস্যার ফল: বিদ্যুৎমন্ত্রী

গ্রামাঞ্চলে চলমান লোডশেডিংয়ের জন্য বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতিকে দায়ী না করে অবকাঠামোগত ও কারিগরি সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তাঁর দাবি, বর্তমানে গ্রামে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বেশির ভাগই বিদ্যুতের স্বল্পতার কারণে নয়; বরং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার কারিগরি সীমাবদ্ধতার ফল।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নের সময় অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছিল। এসব লাইনে চাহিদা বেড়ে গেলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং আগের তুলনায় কমেছে। তবে যেখানে কারিগরি সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

সংলাপে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। তাঁর মতে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারলে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারবে। সেই সাশ্রয় হওয়া অর্থ বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া দায় পরিশোধে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষিজমি ব্যবহারের বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য পতিত ও অনাবাদি জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে আরও বক্তব্য দেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *