সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

১৩৬ বছরের পুরোনো কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করল বিজেপি সরকার

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে’ আপাতত নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মসজিদে প্রবেশের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়ায় শনিবার থেকে মুসল্লিরা সেখানে যেতে পারেননি। এর আগের দিন, শুক্রবার পর্যন্ত মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রবেশপথ বন্ধ করার আগে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আগাম নোটিশ দেয়নি। তবে মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনায় বিকল্প হিসেবে আরও বড় পরিসরের একটি জায়গা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থাপনার ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া উচিত। অথচ ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর জরুরি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মসজিদটি বিমানবন্দরের উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরে পড়েছে, যার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)। সংস্থাটি অতীতেও ওই স্থাপনাটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে এর আগে কোনো বড় মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ বা প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সে হিসেবে শনিবারের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদে নামাজ বন্ধের ঘটনা ঘটল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে মসজিদটির ইতিহাস। ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ নামে ১৮৯০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের ৩৪ বছর আগের ঘটনা। সে সময় এলাকাটি ছিল অবিভক্ত বাংলার অংশ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর অর্থায়নে মসজিদটি নির্মিত হয়। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ একসময় এখানে নামাজ আদায় করতে আসতেন। বর্তমানে ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে পরিচিত এই উপাসনালয়ে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

এ ঘটনার পর শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দুঃখজনক হলেও কেউ যেন উত্তেজিত না হন বা রাস্তায় না নামেন। তার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান হওয়া উচিত, যাতে মুসল্লিরা আবারও মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।

এ ছাড়া বিষয়টির সমাধানে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দসহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বানও জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *