মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে নতুন শঙ্কা, সিলেট-নেত্রকোনাসহ কয়েক জেলায় বন্যা আরও বাড়তে পারে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

সংস্থাটি জানায়, আগামী দুই দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে আকস্মিক বা স্বল্পস্থায়ী বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি সামান্য কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে উভয় নদীর পানিই আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

এদিকে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বাড়তে থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *