করোনা মহামারির সময় ভুয়া করোনা সনদ জালিয়াতির ঘটনায় আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম আবারও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন কারাভোগ ও বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর মুক্তি মিললেও এবার একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পল্লবী থানার পুলিশের আবেদনের পর তাকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ার পর প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস পর, ৪ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
করোনা মহামারির সময় সাহেদের নাম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। ২০২০ সালের ৭ জুলাই র্যাব উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ জব্দ করে। সে সময় হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ছিলেন সাহেদ। ওই ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় করোনার সনদ জালিয়াতির মামলা দায়ের করে।
মামলা হওয়ার নয় দিনের মাথায়, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।
২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের এক মামলায় আদালত সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে তিনি হাইকোর্টে আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি সেই আপিল মঞ্জুর করে তাকে খালাস দেওয়া হয়। তবে তিন দিন পর, ১৪ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত করেন।
এ ছাড়া, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এরও আগে, ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় ছয় মাসের সাজা হয়েছিল তার।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৫টি মামলার মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলাও রয়েছে। ওই মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে তিনি ১১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া সনদ দিয়ে প্রায় ৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ২২৭ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কৌশলে আরও নানা ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।








