বঙ্গোপসাগরে নজরদারি জোরদার করতে এবার মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপথে মানবপাচার, চোরাচালান, অবৈধ মাছ শিকার এবং জলসীমার বিভিন্ন কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি মেরিটাইম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি এই স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হতে পারে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) জানিয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ নামে একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হচ্ছে, যেখানে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।
বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ের মাধ্যমে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করে। সেই রায়ের ফলে বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকা বাংলাদেশের অধীনে আসে। এরপর থেকেই সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিশাল এই জলসীমার বড় অংশ এখনও পর্যাপ্ত নজরদারির আওতার বাইরে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সুযোগে মানবপাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পাশাপাশি ৪০ মিটারের কম গভীরতায় বাণিজ্যিক ট্রলারে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা কতটা মানা হচ্ছে, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল অংশে কার্যকর নজরদারি না থাকায় দেশের সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সমুদ্রের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
বিএসসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে ‘এআইএস-টু ডট জিরো’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হবে। এরপর প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক ভেন্ডর বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।
প্রকল্পের ব্যয় নির্ভর করবে স্যাটেলাইটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য আয়ুর ওপর। তবে ড. ইমাদুর রহমান জানিয়েছেন, যদি চলতি বছরের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে অন্তত ১৮ মাসের মধ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এর আগে ২০১৮ সালের ১১ মে দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। নতুন মেরিটাইম স্যাটেলাইট বাস্তবায়িত হলে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্রসীমা পর্যবেক্ষণে এটি একটি নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।








