রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সবশেষ

চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবির পর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা, শ্রমিককে কুপিয়ে জখম

চট্টগ্রামের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এক নির্মাণশ্রমিক কিরিচের আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড়-ভাটিয়ারী লিংক রোডসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি টেম্পোযোগে ঘটনাস্থলে আসে। সে সময় ভবনটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। হামলাকারীরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করে এবং দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে নির্মাণশ্রমিক হাসান সাকিকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলার সময় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিকও মারধরের শিকার হন। পরে ঘটনাস্থল ছাড়ার আগে হামলাকারীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

হামলার শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের হাটহাজারীর বড় দিঘিরপাড় এলাকায় চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ওই এলাকায় ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, গত এক মাস ধরে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। নগরের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার পর বিষয়টি কিছুদিন শান্ত থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে আবারও চাঁদার জন্য ফোন আসতে শুরু করে। তিনি জানান, বিষয়টি আগেই পুলিশকে অবহিত করেছিলেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন। তবে কারা তাকে হুমকি দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম বলতে পারেননি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু জসিম উদ্দিন নন, বড় দিঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন আরও ৮ থেকে ১০টি ভবনের মালিকের কাছ থেকেও একইভাবে ফোনে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর এলাকায় এ ধরনের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির ঘটনা আগে ঘটেনি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় একটি মামলা হয় এবং পরে র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। হামলার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে।

ওই মামলায় সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ইমন পরিচয় দেওয়া একজনকে বলতে শোনা যায়, তারা কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছুরি বা কিরিচ নিয়ে হামলা চালান না; তাদের হামলার ধরন চট্টগ্রামের মানুষ জানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *