প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনজন প্রতিবন্ধীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবেই তিনি এই নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তিনজনের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।
উপ প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করতে পেরে তিনজনই আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁদের জন্য এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং নতুন কর্মজীবন ও ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনারও সূচনা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন জন্মগতভাবে দুই হাতবিহীন। শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে তাঁরা পা দিয়ে লিখেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
এর মধ্যে নীলা খাতুনকে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক হিসেবে এবং আয়শা আক্তারকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবন্ধী তিনজনকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র বিতরণের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।








