রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

পুলিশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, পেশাদার এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পরিচালিত হতে হবে।

রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় যুগ আগে অবৈধ সরকারের সময় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তারা নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘ ১৮ বছরের সেই অপেক্ষার অবসানের পর রাষ্ট্রের পরিবর্তনের এই সময়ে তাদের দায়িত্ব হবে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অপরাধে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি জনগণের প্রকৃত বন্ধু ও সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। পরে বিভিন্ন বিষয়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণে অংশ নেন ৪ জন নারী ও ৫৩ জন পুরুষ কর্মকর্তা। এছাড়া ২৮তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তাও কুচকাওয়াজে অংশ নেন। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা প্রায় দেড় যুগ নিয়োগবঞ্চিত ছিলেন। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সংক্ষিপ্ত করে ছয় মাসে সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী দুই বছরে দুই ধাপে তাদের অবশিষ্ট ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে। মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ চললেও তাদের মূল পদায়ন ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরেই বহাল থাকবে।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ শেষে বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। আর বেস্ট শ্যুটার নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *