বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ওবায়দুল কাদেরদের মতো রাজনীতিবিদদের জন্ম যাতে এ দেশে আর না হয়: ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্কের শেষ দিনে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের দোহাই দিয়ে যাতে কেউ ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বুধবার মামলাটির ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। এদিন চিফ প্রসিকিউটর তার বক্তব্য শেষ করেন এবং মামলার সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মামলার প্রত্যেক আসামির ব্যক্তিগত দায় রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ওপর ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ও বর্তায় বলে দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধ ঠেকাতে আসামিরা কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেননি। বরং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের সরাসরি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তার দাবি, ওই নির্দেশনার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের অবগত ছিলেন।

যুক্তিতর্কে মামলাটির অপর আসামিদের ভূমিকাও তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। তারা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, জুলাইয়ের সহিংসতায় হাজারো মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আসামিরা দায়ী।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর। এ কারণে তাদের কোনো ধরনের অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

যুক্তিতর্কের শেষ পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এমন রাজনীতিবিদদের পুনরায় জন্ম যাতে বাংলাদেশে না হয়, সেই বার্তাও শাস্তির মাধ্যমে দিতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেটকে ব্যবহার করে কেউ যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ না পান, এমন অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *