বিয়ের খাবারের আয়োজনে আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে যে বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই সেই প্রবাসী যুবক নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার নেয়ামতপুর গ্রামে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারকে বিয়ে করেন জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।
নতুন বিয়ের পর নববধূর সঙ্গে ছবি তুলে তা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে সবার কাছে নবদম্পতির জন্য দোয়া চেয়েছেন।
জানা গেছে, কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে জুনায়েদের সঙ্গে আখাউড়া উপজেলার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার দুপুরে। নির্ধারিত সময়ে বরপক্ষ কনের বাড়িতে গেলেও খাবারের আয়োজন নিয়ে একপর্যায়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
বরের জন্য খাবারে আস্ত খাসি না রাখায় জুনায়েদ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কনেপক্ষ বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উপহারসামগ্রীসহ বর ও তার স্বজনদের বিদায় করে দেওয়া হয়।
এরপর নতুন করে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ রানা জানান, নতুন কনের পরিবারই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুই পরিবারের আলোচনার পর মঙ্গলবার রাতে নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
নতুন কনে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। কনের মামার বাড়িটি বর জুনায়েদের গ্রামের মধ্যেই।
পারভেজ রানা জানান, ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের ভাইয়ের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়েছে। জুনায়েদের জাপানে ফেরার ছুটি ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রয়েছে। তবে বিয়ের কারণে তিনি ছুটি আরও বাড়াবেন।
বিয়ের পর রাত ১টার দিকে নববধূর সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো।’ পাশাপাশি নবদম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
এদিকে নতুন বিয়ের একটি ভিডিওতেও দেখা গেছে, এবার বরের খাবারের আয়োজনে আস্ত খাসি রাখা হয়েছে। বরসহ অন্যরা খাসিসহ বিভিন্ন খাবার আনন্দের সঙ্গে খাচ্ছেন।








