বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল ইউএই

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ বা এর আওতা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে, ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশটির জলসীমায় নৌযান চলাচল লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা আসে।

ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আফরা আল হামেলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, ইরান থেকে ইউএইর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরির উদ্যোগকেও বাধাগ্রস্ত করে বলে দাবি করেছে ইরান।

বাঘেই এ সময় আঞ্চলিক সব পক্ষকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ তোলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত বন্ধের কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *