শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির সমাবেশস্থলে কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘোষণা!

জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বক্তব্যের প্রতিবাদে দেওয়া তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ার অভিযোগে এবার এনসিপির কর্মসূচির স্থানেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জামিয়া ইউনূছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা চত্বরে এক ভিডিও বার্তায় কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ।

তিনি জানান, তাদের দেওয়া তিনটি দাবি এখনো মেনে নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হাসনাত আব্দুল্লাহও লাইভে এসে ক্ষমা চাননি। এ অবস্থায় শনিবার বিকেলে এনসিপির নির্ধারিত কর্মসূচির স্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

ভিডিও বার্তায় এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন খালেদ সাইফুল্লাহ।

একই ভেন্যুতে দুই কর্মসূচি, সতর্ক পুলিশ
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ঘোষিত নতুন কর্মসূচির সঙ্গে একই স্থানে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম.এম. রকীব উর রাজা জানান, শুক্রবার রাতে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে কওমি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, শনিবার একই জায়গায় এনসিপি ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি থাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন দেখছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

একই সময় ও একই স্থানে দুই পক্ষের কর্মসূচি হলে সংঘাত কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

রাতের বিক্ষোভ থেকে নতুন কর্মসূচি
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জামিয়া ইউনূছিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। এতে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অংশ নেন।

মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন। বক্তব্যের জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপিকে বয়কটের বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়। বক্তারা দাবি করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহকে লাইভে এসে এবং জাতীয় সংসদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার এবং দলটি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে শনিবার বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই স্থানে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণায় ওই কর্মসূচিকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *