বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ মন্ত্রীর

অবৈধ পথে বিদেশ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দেশে থাকা দালালদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত এই চক্রের সদস্যদের তথ্যও সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপারকে এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অবৈধভাবে মানুষকে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। গত মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলার দুটি থানায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি।

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদেশে থাকা অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এক সপ্তাহ পর অগ্রগতি জানতে চান বলেও জানান তিনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য সিলেটের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের প্রতি নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

ভূমধ্যসাগরে নিহতদের পরিবারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ
সভায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির সরকার বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার যখন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে খরচমুক্ত সুযোগ দিয়েছে, তখন বাংলাদেশ সরকারও কর্মীদের বিনা খরচে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে দুর্ঘটনায় নিহত সুনামগঞ্জের পরিবারগুলোর মধ্য থেকে একজন করে সদস্যকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।

পাঁচ আসনে প্রশিক্ষণকেন্দ্র
অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা বন্ধে তরুণদের দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে বিদেশে যাওয়ার আগে তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।

আরবি, জাপানি, কোরিয়ান ও ইংরেজি ভাষার কোর্স চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, প্রশিক্ষিত হয়ে বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

প্রাথমিকভাবে পাঁচটি নির্বাচনি এলাকার উপযুক্ত কেন্দ্র নির্ধারণ করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরবর্তীতে প্রতিটি উপজেলায় প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ জন্য পরিত্যক্ত সরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন।

প্রশিক্ষক ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে, আর সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা কোর্স দ্রুত চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় যারা ছিলেন
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘অবৈধ পথে বিদেশ গমন বিপদ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *