ওমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া এবং বিদ্যমান পারমিট নবায়ন আপাতত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কর্মরত প্রবীণ বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি ও বসবাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক শ্রমবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি কয়েকজন প্রবাসী কর্মীর নিয়োগকর্তারা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে জমা দেওয়া ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদন কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। দায়িত্বশীল এক প্রবীণ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬০ বছরের বেশি বয়সী বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন করে কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
তবে এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দীর্ঘদিন ধরে ওমানে থাকা বয়স্ক প্রবাসীরা। যারা আগের নীতির ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে পারমিট নবায়ন করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
এর আগে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ৬০ বছর বয়স পার হওয়ার পরও প্রবাসীদের বেসরকারি খাতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল ওমান সরকার। অভিজ্ঞ বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ অনুমতির জন্য আবেদন করায় তখন এ নীতি নেওয়া হয়েছিল।
ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, অভিজ্ঞ কর্মীদের ধরে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নীতিটি চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব পদে ওমানি নাগরিক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা ছিল না, সেসব ক্ষেত্রে এ সুযোগ প্রযোজ্য ছিল।
চার বছর পর সেই নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়ায় ওমানে থাকা প্রবীণ প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন পারমিট না পাওয়া বা পুরোনো পারমিট নবায়ন করতে না পারলে তাদের চাকরির পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানের বিষয়টিও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ করে কোনো নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবাসীদের জন্য সিদ্ধান্তটি কতটা স্থায়ী এবং এর আওতা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।








