হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি ঘিরে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান যদি কোনো অঞ্চলে তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে সেখানে অন্য কোনো দেশকেও তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে না।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন গালিবাফ। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় গালিবাফ বলেন, চলমান যুদ্ধের বাস্তবতা এখন ‘হয় সব, নয়তো কেউই নয়’, এই সমীকরণে দাঁড়িয়েছে। তার বক্তব্য, ইরান যে অঞ্চলে তেল বিক্রি করতে পারবে না, অন্য কোনো দেশকেও সেখানে তেল বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।
তেল রপ্তানির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি না থাকা।
গালিবাফ বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোকেই নিরাপদ বলা যাবে না। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালি আর ফিরে যাবে ভাবার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ইরান আগে একাধিকবার সতর্ক করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বা তেল পরিবহনে বাধা তৈরি হলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।








