মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। একই সঙ্গে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
এক বক্তব্যে এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের ‘যুদ্ধপাগল’ সরকার ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
তিনি বলেন, ‘জায়নবাদি সরকার তার প্রতিবেশীদের শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।’ মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের ‘গণহত্যার নেটওয়ার্কের আইনবহির্ভূত নীতির’ বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির এই উত্তেজনার মধ্যেই মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগের কথাও জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোট ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য তুরস্ক কাজ করছে।
তুরস্কের এই অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন সিরিয়াকে ঘিরেও আঙ্কারা ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, ঘাঁটিটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েন ঠেকানোই ছিল হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
এরদোয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই ঘটনার সরাসরি প্রসঙ্গ না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্কের অবস্থান নিয়ে তার কঠোর বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।








