দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ খুলেছে। অষ্টম বেতন কমিশনের পর প্রায় এক যুগের ব্যবধানে এবার নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে উপস্থিত একজন সচিব বিষয়টি জানান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
নতুন কাঠামো অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাল। এর আগে নতুন পে-স্কেল তৈরির জন্য একাধিক কমিটি ও কমিশন বেতন বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিল।
১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ ছিল
নতুন বেতন কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ বড় সুপারিশ আসে নবম জাতীয় বেতন কমিশন থেকে। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের এই কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
কমিশন গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
এর আগে, নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ তৈরিতে আরেকটি কমিটিও কাজ করে। গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
একবারে নয়, ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনাও ছিল
বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়েও আগে আলোচনা ছিল। ১০ সদস্যের কমিটি দুই ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করার সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল।
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সেখানে ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়।
ফলে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের বর্তমান সিদ্ধান্তটি শুধু বেতন বাড়ানোর একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এর পেছনে রয়েছে কয়েক দফা সুপারিশ, কমিশনের প্রতিবেদন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার ধারাবাহিকতা।
অষ্টম বেতন কমিশনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে নতুন কাঠামো অনুমোদনের ফলে এখন এর বাস্তবায়ন এবং কোন গ্রেডে কত হারে বেতন কার্যকর হবে, সেদিকেই নজর থাকবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।








