পদ্মা সেতু পেরিয়ে মাওয়া প্রান্তের ঢালে নামার পর হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায় নিউ গ্রীনলাইন এক্সপ্রেসের একটি বাস। প্রথমে ডান পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা, এরপর পুরো বাস ঘুরে বাঁ পাশের রেলিংয়ে আঘাত, শেষ পর্যন্ত সড়কের ওপর উল্টে যায় বাসটি। এতে আহত হয়েছেন আট যাত্রী।
সোমবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বাসটি মাগুরা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বেলা সোয়া একটার দিকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তের ঢালে নামার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বাসটি ঢাল বেয়ে নামার সময় প্রথমে সেতুর ডান পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি ঘুরে গিয়ে বিপরীত পাশের রেলিংয়ে আঘাত করে এবং উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। বেলা ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে খবর পৌঁছায়। পরে দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের বাস থেকে বের করে আনে।
আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে মাগুরা সদরের সাইফুল্লাহ (৮০), লুৎফর রহমান (৬৩), মাগুরার মোহাম্মদপুরের ফাতেমা আক্তার (৭), শ্রীপুরের সাইফ (২৩), ফরিদপুরের মধুখালীর আরাফাত (১৩), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার রেবেকা খাতুন (৪০), দামুড়হুদার নূর ইসলাম (৪৬) ও রশিদা বেগম (৪০) রয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানজিম তামান্না জানান, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে নূর ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা জানা গেলেও ঠিক কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।








