সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

সবশেষ

পটিয়ায় একের পর এক ডাকাতি, এবার পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতের হানা

পটিয়ায় ডাকাতির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও গরু লুটের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি ঘটনা, পুলিশ পরিচয়ে দুই প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাটের অভিযোগ।

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুর আলী মিয়ার বাপের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ি দুটির মালিক প্রবাসী মোহাম্মদ সিরাজ ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ডাকাতেরা প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় একটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নেয় তারা।

ঘটনার শুরু নুরুল ইসলামের বাড়িতে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নুরুল ইসলামের বাবা পেশায় কৃষক। রাতে বাড়ির পাশের ফসল পাহারা দিতে তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার পরই আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ডাকাতেরা ভেতরে ঢোকে। প্রথমে নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেয় তারা। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট শুরু করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর নুরুল ইসলামের মা রাজিয়া বেগমের গলায় ছুরি ধরে পাশের বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করা হয়।

সিরাজের বাড়িতে ঢুকেও একই কায়দায় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করা হয়। সেখান থেকে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ রয়েছে। পরে দ্বিতীয় তলায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

নুরুল ইসলামের ভাষ্য, প্রথমে ডাকাতেরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়েছিল। পরে তিনি বুঝতে পারেন তারা ডাকাত। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়। তার দাবি, ডাকাত দলের প্রত্যেকের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র ছিল।

ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর নুরুল ইসলাম প্রতিবেশীদের খবর দেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগের ঘটনাগুলোও কচুয়াইসহ পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায়
সর্বশেষ ঘটনার সঙ্গে পটিয়ায় সাম্প্রতিক কয়েকটি ডাকাতির অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। গত ২৬ আগস্ট গভীর রাতে কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় আলমারি ভেঙে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা এবং ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ২৫ জুলাই ভোরে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামে অস্ত্রের মুখে একটি বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে।

তারও আগে ২৩ এপ্রিল পটিয়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চারটি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। লুট হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাসে একের পর এক ডাকাতির অভিযোগ উঠলেও এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে সর্বশেষ ঘটনায় শুধু লুট হওয়া সম্পদের বিষয়টিই নয়, ধারাবাহিক এসব ঘটনার পরও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পারা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে এবার ডাকাতেরা পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই এলাকায় বারবার ডাকাতির অভিযোগের পরও যদি অপরাধীরা ধরা না পড়ে, তাহলে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *