বিয়ের আয়োজন ঘিরে তখন বাড়িতে উৎসবের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার গায়ে হলুদ, পরদিন বুধবার বিয়ে। স্বজনদের আনাগোনায় মুখর বাড়িটি। এর মধ্যেই সোমবার দুপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিয়ে বাড়ির লোকজনের কথা কাটাকাটি।
বিরোধটা যে শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তখনই। তাই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পরিবারটি।
পুলিশও এসেছিল। দুই পক্ষকে ডেকে কথা বলেছিল। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরপর পুলিশ চলে যায়।
কিন্তু সেই আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয়, পুলিশ চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিয়েবাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে।
সোমবার বিকালে নোয়াখালী সদরের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে দুবাইপ্রবাসী রাজু হোসেনের বাড়িতে এ হামলা হয়। এতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের আটজন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বিয়ের গেইট ও প্যান্ডেল।
দুপুরের বিরোধ থেকে বিকালের হামলা
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের ময়লা ফেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলার আশঙ্কা করেন পরিবারের সদস্যরা।
৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়।
পরিবারটির অভিযোগ, বিকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় বাড়ির সদস্যদের কয়েকজন আহত হন। একই সঙ্গে বিয়ের জন্য তৈরি করা গেইট ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়।
অর্থাৎ, দুপুরে যে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার আশঙ্কায় পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছিল পরিবারটি, বিকালেই সেই আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখা গেল।
উৎসবের বাড়িতে আহত আটজন
হামলায় আহত আটজন হলেন, রাজুর বাবা আবদুল হক মাস্টার (৭০), মা ফেরদৌসী বেগম (৫৫), ছোট ভাই আজাদ হোসেন (২০), বড় বোন সুমি (২৮), শারমিন (২৬), ভাগিনা রাফসান (৮), ভাগনি আয়েশা (৪) ও লিজা (২)।
আহতদের মধ্যে রাজুর বাবা, মা, ভাই ও দুই বোনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজুর বিয়েকে কেন্দ্র করে বাড়িতে আগে থেকেই আত্মীয়-স্বজনের ভিড় ছিল। বোন, বোন জামাই, ভাগিনা-ভাগনিসহ পরিবারের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এমন একটি সময়েই হামলার ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার বলেন, রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত পাঁচজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষকে আন্তঃবিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরও একজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতরা সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশের বক্তব্যে এখন তদন্তের অপেক্ষা
ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে ঘটনার সময়রেখা বলছে, বিরোধের সূত্রপাত দুপুরে, হামলার আশঙ্কায় ৯৯৯-এ ফোন, এরপর পুলিশের ঘটনাস্থলে যাওয়া, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলা এবং মীমাংসার সিদ্ধান্ত। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার হামলা।
ফলে এখন সামনে আসছে কয়েকটি প্রশ্ন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল, হামলায় কারা জড়িত এবং দুপুরের বিরোধ কীভাবে বিকালের সশস্ত্র হামলায় গড়াল?
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তেই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








