দেশে না ফিরেই ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে ১৪টি দেশে পরিচালিত এ কার্যক্রমে তদন্ত ও যাচাই শেষে ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী এনআইডি পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসির আগস্ট মাসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯ জনের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। এখনও ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি।
অন্যদিকে, রেজিস্ট্রেশন অফিসারের তদন্ত শেষে ৩ হাজার ৫৩৬টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল হয়েছে আরও ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন।
আবেদনে এগিয়ে আমিরাত, এরপর যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র
প্রবাসীদের এনআইডি আবেদনের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেও বিপুলসংখ্যক আবেদন এসেছে। নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে মোট ১৮ হাজার ৪৭২টি আবেদন জমা পড়েছে।
এ ছাড়া ইতালি থেকে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরব থেকে প্রায় ৭ হাজার এবং কুয়েত থেকে ৫ হাজার ৯২১টি আবেদন পাওয়া গেছে। কাতার থেকে এসেছে ৪ হাজার ৮২৯টি আবেদন।
অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজারের বেশি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি স্টেশনে আবেদন পড়েছে ১ হাজার ৪৫৯টি। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৭৯৪টি আবেদন।
জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০৮টির বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। মালদ্বীপের মালে স্টেশনে আবেদন এসেছে ৩২৮টি।
ওমানের মাস্কাট স্টেশনে ২ হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া স্টেশনে ১৩৯টি আবেদন নিয়ে সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে।
২৪ স্টেশনে চলছে কার্যক্রম
ইসির ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে ১৪টি দেশ ও ২৪টি স্টেশনের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কেন্দ্রগুলো থেকে।
প্রবাসীদের দেশে না ফিরেই ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি দেওয়ার উদ্যোগটি ২০১৯ সালে বাস্তব রূপ পেতে শুরু করে। এর আগে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় থেকেই বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের ভোটার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২০১০ সালে ভোটার তালিকা আইনেও প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়।
তবে কার্যকরভাবে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের এনআইডি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতেও এ কার্যক্রম শুরু হয়।
নতুন দেশ যুক্ত হচ্ছে এনআইডি সেবার আওতায়
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে এনআইডি সেবার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে এ কার্যক্রম চালু ছিল। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর বাইরে আরও কয়েকটি দেশকে কার্যক্রমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে নতুন করে তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ৪ আগস্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ডও তুলে দেওয়া হয়।
ফলে সিঙ্গাপুরকে এখন ভবিষ্যতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের তালিকায় থাকা দেশ হিসেবে নয়, বরং চালু হওয়া এনআইডি সেবার আওতাভুক্ত দেশ হিসেবে গণ্য করতে হচ্ছে।
প্রবাসীদের জন্য বাড়ছে দেশে না ফিরেই এনআইডি পাওয়ার সুযোগ
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। একদিকে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে, অন্যদিকে যাচাই শেষে ৫৪ হাজারের বেশি আবেদন অনুমোদনও পেয়েছে।
তবে এখনও ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি এবং ৩ হাজার ৫৩৬টি আবেদন তদন্ত শেষ করে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে প্রবাসীদের এনআইডি সেবার চাহিদার পাশাপাশি আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির কার্যক্রমও সামনে আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।








