সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় লিবিয়ায় গিয়ে আটক হওয়া ১৬৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক এসব নাগরিককে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
লিবিয়া সরকার, বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরাদের বেশিরভাগই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে অবস্থানের সময় তাদের অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বুরাক এয়ারের ফ্লাইটে দেশে ফেরেন
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে ১৬৮ বাংলাদেশি দেশে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং আইওএমের কর্মকর্তারা দেশে ফেরা নাগরিকদের অভ্যর্থনা জানান।
মানবপাচারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
দেশে ফেরাদের অধিকাংশের লিবিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ। মানবপাচারকারীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ান বলে জানা গেছে।
তবে ইউরোপে পৌঁছানোর পরিবর্তে তাদের অনেকেই লিবিয়ায় আটক হন। কেউ কেউ সেখানে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশে ফেরা এসব ব্যক্তিকে তাদের লিবিয়া যাত্রা এবং সেখানে ভোগ করা দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন আর কেউ মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় না যান, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
দেশে ফিরেই পাচ্ছেন প্রাথমিক সহায়তা
ফেরত আসা নাগরিকদের পুনর্বাসন ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে আইওএমের পক্ষ থেকে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রত্যেক প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিকে পথখরচের পাশাপাশি কিছু খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কারও প্রয়োজন হলে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও বাংলাদেশিকে ফেরাতে কাজ চলছে
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে এ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এ সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।








