সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন যে ৮ দেশের নাগরিকরা, তালিকায় কোন কোন দেশ?

জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ করে দেওয়া ‘অপরচুনিটি কার্ড’ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে। তবে এই কার্ডের ক্ষেত্রে সব দেশের নাগরিকের নিয়ম এক নয়। আট দেশের নাগরিকেরা আগে থেকে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসা না নিয়েও জার্মানিতে প্রবেশ করে দেশটির ভেতর থেকে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে এই তালিকায় নেই বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে গিয়ে পরে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুযোগ নেই। তাদের দেশ ছাড়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

জার্মানিতে ঢুকলেই মিলবে না অপরচুনিটি কার্ড
ভিসামুক্তভাবে জার্মানিতে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট আট দেশের নাগরিকদের জন্য অপরচুনিটি কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে মঞ্জুর হয় না। দেশটিতে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়।

জার্মানিতে পৌঁছে প্রথম ধাপে নিজের বাসস্থানের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন ঠিকানায় ওঠার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে।

এরপর জার্মানিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়সীমার শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশিদের জন্য নিয়ম কেন আলাদা?
বাংলাদেশসহ তালিকার বাইরে থাকা দেশের নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে জার্মানিতে যাওয়ার আগেই। অর্থাৎ বাংলাদেশি কোনো চাকরিপ্রার্থী অপরচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে জার্মানিতে যেতে চাইলে তাকে প্রথমে ভিসার আবেদন করে সেটি অনুমোদন করাতে হবে।

শুধু জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করে পরে দেশটির ভেতর থেকে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করার সুযোগ বাংলাদেশিদের নেই।

তাই জার্মানিতে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ভ্রমণের আগেই ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

কারা পাবেন অপরচুনিটি কার্ড?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেওয়াই এই কার্ড চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য। আগে থেকে কোনো চাকরির চুক্তি না থাকলেও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তি জার্মানিতে গিয়ে চাকরির সুযোগ খুঁজতে পারেন।

সাধারণত অপরচুনিটি কার্ড সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান পথ রয়েছে।

প্রথমত, আবেদনকারীর জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতিতে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় পয়েন্ট প্রয়োজন।

পয়েন্ট নির্ধারণে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, ভাষাজ্ঞান, বয়স এবং কাজের অভিজ্ঞতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতাও দেখাতে হবে
অপরচুনিটি কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট নয়। জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করার সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হয়।

২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রতি মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

জার্মানিতে পৌঁছানোর পর কার্ডধারীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ কাজ করার অনুমতিও থাকে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করা যায়। সম্ভাব্য চাকরির সঙ্গে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার মিল যাচাই করতে পরীক্ষামূলক কাজের সুযোগও রয়েছে।

আট দেশের নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে হবে
ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও আট দেশের নাগরিকদের বিষয়টি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের নিয়ম ও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনায় বার্লিনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা ছাড়া জার্মানিতে প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করতে গিয়ে কেউ সমস্যায় পড়তে পারেন।

এ কারণে জার্মানিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে আবেদন গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি যোগ্য কর্মীদের আকৃষ্ট করতেই অপরচুনিটি কার্ড চালু করেছে দেশটি। এর ফলে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশিদের জন্য এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপই হচ্ছে ভিসা। তাই জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা থাকলে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগেই অপরচুনিটি কার্ডের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *