রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

স্বামীর টাকায় পড়াশোনার পর সরকারি চাকরি পেয়ে প্রবাসী স্বামীকেই তালাক দিলেন নারী!

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্ত্রীকে পড়াশোনা ও কোচিং করাতে দীর্ঘদিন অর্থ ব্যয় করার পর সরকারি চাকরি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, এমন অভিযোগ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকন। তার দাবি, স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় চার বছর ধরে তিনি নিয়মিত অর্থ পাঠিয়েছেন। স্ত্রী সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের যোগাযোগ কমে যায় এবং পরে তাকে তালাক দেওয়া হয়।

সাইফুল ইসলাম খোকনের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামে। ২০১৬ সালে একই উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাসের মাথায় তিনি কর্মসূত্রে মালয়েশিয়ায় চলে যান।

সাইফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে সহযোগিতা করেন। এ জন্য কুমিল্লায় বাসা ভাড়া করে এইচএসসি পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি, থাকা-খাওয়াসহ পড়াশোনার বিভিন্ন খরচও তিনি বহন করেন। প্রায় চার বছর ধরে এসব ব্যয় করার পর জান্নাতুল তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার কথা জানান।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও স্ত্রী তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানান সাইফুল। একপর্যায়ে কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে স্ত্রী তাকে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান। ওই কাগজে তাকে নমিনি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে চাকরিতে যোগদানের পর ধীরে ধীরে তাদের যোগাযোগ কমতে থাকে বলে অভিযোগ সাইফুলের। গত জুলাইয়ে দেশে ফেরার পর দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি আরও বাড়ে। পরে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌসের ছোট ভাই ফয়সল। তার দাবি, সাইফুল দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকাকালে তার বোনের খোঁজখবর যথাযথভাবে রাখতেন না। এ কারণেই জান্নাতুল তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে বোনের পড়াশোনা, কোচিং এবং ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ স্বামীর অর্থে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌসের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সাইফুল ও তার পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জন থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য ব্যয় বহনের পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটেছে। বর্তমানে স্ত্রীর কাছে থাকা নিজের গচ্ছিত অর্থ ও অন্যান্য পাওনা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন সাইফুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *