শরীয়তপুরের জাজিরায় আবারও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে পদ্মার ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোতে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলমখার কান্দী এলাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে বিস্তীর্ণ নদীতীর বিলীন হয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে চোখের সামনেই নদীতে তলিয়ে গেছে মালয়েশিয়াপ্রবাসী জুলহাস খানের পুরো বসতবাড়ি। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে আলমখার কান্দী এলাকায় পদ্মার স্রোত তীরের দিকে চাপ তৈরি করছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মাটি ধসে নদীতে পড়ছে। তাদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার বা তারও বেশি নদীতীর বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু বসতবাড়ি, দোকানপাট, ফসলি জমি ও স্থানীয় সড়ক।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাঙনের তীব্রতা বাড়লে জুলহাস খানের বাড়ির একাংশে ধস নামে। নদী এরই মধ্যে বাড়িটির একেবারে কাছে চলে এসেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়া অংশের পর পুরো বসতবাড়িটিই পদ্মার গর্ভে চলে যায়। ওই ঘটনার ভিডিও বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
জুলহাস খান দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। প্রবাসে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। সেই বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের বাড়িগুলো নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ভাঙন থেকে নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষার সুযোগ না থাকায় নদীতীরের অনেক পরিবার এখন আগেভাগেই মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ খুলে নিচ্ছেন টিনের চাল, দরজা-জানালা; কেউ সরিয়ে নিচ্ছেন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেকেই স্বজনদের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় কেউ কেউ রাত জেগে নিজেদের বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন।
আলমখার কান্দীর বাসিন্দা আক্কাস মিয়া বলেন, পদ্মার ভাঙন অব্যাহত থাকলে সামনে আরও অনেক বাড়িঘর নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য, এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
আলমখার কান্দীর পাশাপাশি জাজিরার আরও কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া ও ফরাজীকান্দি এবং পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি এলাকায়ও নদীভাঙনে বসতভিটা, সড়ক, ফসলি জমি ও দোকানপাট ঝুঁকিতে রয়েছে। কোথাও কোথাও বসতভিটার অংশ ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে।
এর আগে, কাথুরিয়া এলাকাতেও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১১০ মিটার নদীতীর বিলীন হয়। এতে একটি সড়ক, কয়েকটি দোকান ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙন আরও এগিয়ে আসার আশঙ্কায় ওই এলাকার বেশ কিছু পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিলটন হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








