সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবশেষ

প্রবাসীদের জন্য হাজার কোটির আবাসন

সিলেট শহরে আবাসন সংকট যখন সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন প্রবাসীদের জন্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। নগরীর বটেশ্বর এলাকায় প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রি-একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কর্মকর্তারা মালয়েশিয়াও সফর করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ার আদলে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুল আলম প্রকল্পটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বটেশ্বর এলাকায় প্রবাসীদের জন্য এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন প্রকল্পটি খুব শিগগিরই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, পুত্রজায়ার মতো আধুনিক আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা গেলে সিলেটের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসবে।

জমির দামে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে আবাসন
সিলেটে নতুন আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা সামনে এলেও নগরীর বড় একটি অংশের মানুষের জন্য নিজের একটি বাড়ি বা জমির মালিক হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। শহরের জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের চাকরিজীবীদের ভাড়া বাসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

প্রতিমাসে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়ছে আর্থিক চাপ। শহরতলীতে ব্যক্তি উদ্যোগে বেশ কিছু আবাসিক এলাকা গড়ে উঠলেও সেখানেও জমির দাম অনেকের সামর্থ্যের বাইরে।

সিলেট চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর মতে, সাধারণ মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। তার ভাষায়, মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

‘সোনার চেয়েও দামি’ সিলেটের জমি
নগরীর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে জমির মূল্য কতটা বেড়েছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে। জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক লায়েস উদ্দিন জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণভাবে জমি কেনাবেচা হয় না। সমঝোতার ভিত্তিতে লেনদেন হলেও প্রতি কাঠার দাম ৫০ লাখ টাকার নিচে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকের কাছেই নগরীতে জমি কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শহরতলীতেও জমির দাম একেবারে কম নয়।

এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে জমি অধিগ্রহণ করে আবাসিক প্লট বরাদ্দের দাবি রয়েছে অনেকের।

আগের প্রকল্পেও দীর্ঘসূত্রতা
প্রবাসীদের জন্য নতুন আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি সিলেটে আগে নেওয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে উপশহর এলাকার পাশে ৫০ একর জমিতে একটি আবাসিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৪০০টি প্লট তৈরির উপযোগী এই প্রকল্প অনুমোদন পেলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এর বাস্তবায়ন এগোয়নি। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছিলেন।

এর বাইরে উপশহরে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এসব ভবনে মোট ৮৮টি ফ্ল্যাট থাকার কথা। প্রতিটি এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এর ৫০ শতাংশ প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। গত বছরের জুলাইয়ে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ৩৬ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা।

দক্ষিণ সুরমায় আরও ২৫০ প্লট
সিলেটের আবাসন চাহিদা মেটাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গৃহায়ন কর্মকর্তারা জানান, নর্থইস্ট মেডিক্যালের কাছে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি আবাসিক প্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একদিকে প্রবাসীদের জন্য হাজার কোটি টাকার আধুনিক আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা, অন্যদিকে স্থানীয় মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া জমির বাজারের মধ্যেই সিলেটের আবাসন সংকট নতুন মাত্রা পাচ্ছে। সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *