যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মেধা, পেশাগত দক্ষতা ও ব্যবসায়িক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। তার এই উদ্যোগে প্রবাসীদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য সুফল কতটা বাস্তব অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর।
সম্প্রতি বে এরিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সভায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রবাসীদের নেটওয়ার্কে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে প্রবাসীদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, প্রবাসীদের ভূমিকা শুধু দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা বা সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ রাখার পরিবর্তে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত বাংলাদেশিরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ তৈরি করেছেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা গেলে বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রবাসীদের নেটওয়ার্ক থাকলেই বাণিজ্য বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন খাতে সহযোগিতার সুযোগ বেশি, সম্ভাব্য অংশীদার কারা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা জরুরি।
বে এরিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী সংগঠন?
বে এরিয়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের মতবিনিময় প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি উদাহরণ। এসব সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে দুটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি চালুর প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বৈঠকে আলোচনা হওয়া বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
এখানেই উদ্যোগটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রশ্ন আসে। প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে মতবিনিময় সভা বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায় এ ধরনের আলোচনা সম্ভাবনার কথা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার ঝুঁকি থাকে।
মেধা আছে, প্রয়োজন কার্যকর সংযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা দুই দেশের সহযোগিতায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে কাজে লাগাতে প্রবাসীদের দক্ষতা ও বাংলাদেশের প্রয়োজনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ প্রবাসীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ, ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব এবং পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের উদ্যোগ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে এগুলো সম্ভাব্য পথ, বৈঠকে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের উদ্যোগের অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু বৈঠকের সংখ্যা নয়, বরং কতটি কার্যকর অংশীদারত্ব তৈরি হলো, কী পরিমাণ ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলো এবং সেখান থেকে কী ধরনের বাস্তব ফল পাওয়া গেল, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ, এখন নজর বাস্তবায়নে
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। প্রবাসীদের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কি না, কোন খাতগুলো অগ্রাধিকার পাবে এবং আলোচনার পর কী ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে, এসব তথ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীদের মেধা ও নেটওয়ার্ককে দুই দেশের সম্পর্কের সম্পদে পরিণত করতে হলে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তবমুখী সহযোগিতা। বে এরিয়া থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সেই সম্ভাবনার কথা সামনে এনেছে। এখন উদ্যোগটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে আলোচনা থেকে কতটা বাস্তব সহযোগিতা তৈরি হয়, তার ওপর।








